রোজকার জীবনে ছ’টি মারাত্মক ভুল ক্ষতি করে দিচ্ছে আপনার কিডনিকে

নিজের শরীরের প্রতি যত্নবান হওয়া সবসময়ই জরুরি। বলতে গেলে, সুস্থ থাকলে রোজকার জীবনেও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন। কাজ করতে পারবেন। এমনকী, আপনার প্রাণোচ্ছল জীবনযাপন দেখে আশেপাশের মানুষ এবং পরিচিত ব্যক্তিরাও উপকৃত হবেন। তাঁরাও সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করবেন। এভাবেই তো লাইফস্টাইল মেইন্টেন হয়।

আমাদের এই মানব শরীর। রোজকার কর্মব্যস্ত জীবনে এর ওপর দিয়ে কতো ধকলই না যায়। তাই শরীরের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়াটা না হয় পেশাদারী স্বার্থেই নিন। যত চনমনে থাকবেন, তত বেশি কাজ করতে পারবেন। আর তত বেশি সফলতা আসবে পেশাদারী জীবনে। ওই যে বলে না, পজিটিভ এনার্জি সবসময় মানুষকে উন্নতির দিকে নিয়ে যায়। সুস্থ থাকার প্রথম পদক্ষেপটা শুরু হয় আমাদের খাবারের প্লেট দিয়ে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যেমন জরুরি রয়েছে, তেমনই অত্যাবশ্যক হলো কি খাচ্ছেন আপনি। উল্টোপাল্টা আহার পেটে না দিয়ে, বরং শরীরে উপকারে লাগবে, সেই খাবার খেতে বলেন ডাক্তারেরা। এছাড়া, সময় মতো ঘুমোতে যাওয়া। কিছু বদ অভ্যেস ত্যাগ করা, এসবই তো সুস্থ-সবল শরীরের চাবিকাঠি। আপনার শরীরের কতোটা ফিট আছে, সেটা আপনার কাজকর্মে উৎসাহ দেখে যেমন বোঝা যায়, তেমনই বোঝা যায় ত্বক দেখে। মসৃণ, টানটান এবং ক্নান্তির ছাপ ছাড়া ত্বক পেতে কার না ভালোলাগে বলুন তো! জানেন, চাইলে আপনিও পেতে পারেন। আর সেটা আপনারই হাতে রয়েছে। নিজের কিডনিকে সুস্থ রাখুন, তাহলেই সব ঠিক থাকবে।

রোজকার জীবনে ছটি বদ অভ্যেস কিডনির ভয়াবহ ক্ষতি করে দিচ্ছে –

১. জলের চেয়ে উপকারী জিনিস আর কিছু নেই নিজেকে সুস্থ রাখতে। একজন পূর্ণবয়ষ্ক মানুষের দিনে অন্তত ছয় থেকে আট গ্লাস জল পান করা উচিত। জল পরিমাণ মতো শরীরে গেলে কিডনির কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে। শরীর থেকে দূষিত বর্জ্য স্বাভাবিকভাবে বেরিয়েও যায়। কিন্তু, জল যদি কম খান, তাহলে কিডনি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে বসে। এই কারণেই কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

২. প্রস্রাব কখনও আটকে রাখবেন না। ভাবছেন যে একটু সময় তো। হাতের কাজটা সেরে নিই, বা খেলা দেখতে বসেছি তো অথবা সিনেমার ওই সিনটা হয়ে যাক, তারপর যাবো – এগুলি খুব খারাপ অভ্যেস। রোজ রোজ কিডনির ওপর এই ধরণের অত্যাচার করলে, খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে আসে কিডনি। তাই প্রস্রাবের বেগ এলে, অকারণে তা চেপে রাখবেন না জোর করে।

৩. মদ্যপান কিডনির পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকারক। আমাদের শরীরে যে তরল পদার্শ প্রবেশ করে, তা কিডনি হয়ে প্রস্রাবের মাধ্যমে বাইরে বের হয়। কিন্তু, অ্যালকোহল এমন একটি তরল যেটা আমাদের কিডনি পুরোপুরি বের করে দিতে পারে বা। বরং, সেটা কিডনির মধ্যে জমা হতে হতে কিডনির ক্ষতি করে দেয়। তাই নিয়মিত মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন। না হলে সিরোসিসের মতো অসুখে আক্রান্ত হতে পারেন। ঘটতে পারে প্রাণহানি।

৪. খাবারে স্বাদ আনার জন্য নুন খান ঠিক আছে। কিন্তু, অনেকের অভ্যেস আছে খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত নুন খাওয়া। না হলে নাকি খাওয়াটা তৃপ্তি করে হয় না। জানেন কি, এতেও প্রচণ্ড ক্ষতি হচ্ছে কিডনির। কাঁচা নুনে সোডিয়াম থাকে। শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে, কিডনি সেটা পুরোপুরি বের করে দিতে পারে না। যতোটা বেরিয়ে যাওয়ার সেটা প্রস্রাবের মধ্যে বেরিয়ে যায়। আর অতিরিক্ত সোডিয়াম কিডনিতেই জমা হয়ে থেকে যায়। এভাবে জমতে জমতে কিডনি বিকল হওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

৫. না ভেবেচিন্তে টপাটপ পেইন কিলার জাতীয় ওষুধ খাওয়ার অভ্যেস আমাদের মধ্যে রয়েছে। এতেও ক্ষতি হয় কিডনির। অতিরিক্ত পেইন কিলারের প্রয়োগে কিডনির কোষ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর তা থেকে কিডনি বিকল হয়ে আসে। মাথাব্যথা হলেই, মুখে পেইন কিলার ফেলার অভ্যেসটা ত্যাগ করতে হবে।

৬. যে খাবার আমরা গ্রহণ করছি, তাতে ভারসাম্য রাখার কথা সবসময়ই বলা হয়। অনেকেই আছে শাকসব্জি খাওয়া ছেড়ে আমিষ খাওয়ার দিকে ঝোঁকেন বেশি করে। তাদের মধ্যে আবার অনেকে আছেন, মাছ মুখে তুলতেও অনীহা। মাংস খান বেশি বেশি করে। এতেও ক্ষতি হয় কিডনির। কারণ, প্রয়োজনীয় উপদানের অভাব হয় শরীরে। কিডনিকে সুস্থ-সবল রাখার জন্য পরিমাণ মতো শাকসব্জি ও মাছ খাওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: