উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগছেন? এই ৬টি উপায় মেনে চললে মুক্তি পাবেন!

হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ, অসুখটার নাম শুনলে অনেকে ঘাবড়ে যান। সত্যি বলতে কি শরীরের এই সমস্যাটা ভয় পাওয়ার মতোই বটে। যাঁর আছে, তিনিই জানেন কি ভয়ঙ্কর সমস্যা। রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিত্যদিন নিজেকে ওষুধে বেঁধে রাখেন। আবার অনেকে আছেন যাঁরা এই ওষুধ খাওয়াকে বড্ড বেশি ভয় পান। আর এই ভয়ে হাই ব্লাড প্রেসারের সমস্যা থাকতে পারে টের পেয়েও ডাক্তারকে এড়িয়ে চলেন। কিন্তু, ব্যাপারটা মোটেই এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। বরং একে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। তবেই সুস্থভাবে অনেকদিন বাঁচতে পারবেন কোনও সমস্যা ছাড়াই। কারণ, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কিন্তু আরও অনেক বিপদ ডেকে আনে।

হাইপার টেনশন নামেও অনেকে আবার শরীরের এই সমস্যাটাকে চেনেন। যত বেশি বাড়ে, ততেই স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকারিক হিসেবে দেখা দিতে থাকে। এমনটা নয় যে বয়স বাড়লে একমাত্র এই সমস্যাটা আপনাকে ভোগাতে পারে! উচ্চ রক্তচাপ কখন কোন বয়সে দেখা দিতে পারে, তা ডাক্তাররাও আপনাকে ঠিকমতো বলতে পারবেন না। তবে, হ্যাঁ ত্রিশ বয়সের পর থেকে অবশ্যই সতর্ক থাকার চেষ্টা করুণ। কারণ, এই বয়স থেকে শরীরে অনেক পরিবর্তন আসতে থাকে। শরীর বার্ধ্যকের দিকে মোড় নেওয়া শুরু করে ত্রিশের কোটা থেকেই। ফলে, এই সময়টাতে সতর্কতা অবলম্বন করা অবশ্যই জরুরি। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাটা সহজে একবার বুঝিয়ে দেওয়া যাক। আমরা জানি, আমদের সারা শরীরে রক্ত পাঠানোর কাজ করে আমাদের হৃদপিণ্ড। হৃদযন্ত্র তরতাজা থাকলে শরীর আপনাআপনি সুস্থ থাকে। এবার রক্তচাপ যত বাড়তে থাকার কারণ হলো শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে আমাদের হৃদপিণ্ড যখন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কাজ করতে শুরু করে। এইভাবে চাপ যত বেশি বাড়তে থাকে, হৃদপিণ্ড তার কর্মক্ষমতা বাড়াতে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ে। তখনই মানুষ হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন।

হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে পড়ার আগেও আরও অনেক ঘটনা ঘটে, সেটাও বলে রাখি। এই যে রক্তচাপ বৃদ্ধির কারণে হৃদযন্ত্র যখন রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে তার কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, তখন রক্তজালিকা এবং শিরার উপর চাপ পড়ে। শরীরে মেদ বাড়ার ফলে বিপাক ক্রিয়া ঠিকমতো হয় না। শিরা ও ধমনী সঙ্কুচিত হয়ে এলে রক্ত সারা শরীরে পৌঁছতে পারে না। রক্তের সঙ্গে অক্সিজেন আমার শরীরে পৌঁছয়। যখন তাতে ব্যাঘাত ঘটে, তখন শরীরকে সচল রাখতে হৃদযন্ত্র তার কাজ বাড়িয়ে দেয়। এখন রক্ত যাওয়ার পথ যদি ছোটো হয়ে আসে তখন পরিমাণ মতো রক্ত হৃদযন্ত্র থেকে বের হতে পারে না। ফলে আয়তনে বড় হয়ে যায়। সেই সময় হৃদপিণ্ড আগের অবস্থায় ফিরে আসতে রক্ত পাঠানোর গতি আরও বাডিয়ে দেয়। তখন চাপ বাড়ার ফলে শিরা এবং রক্তজালিকা ফেটে যায়। আর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হাই ব্লাড প্রেসারের লক্ষণ?

মাথাব্যথা, শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা মানে দম কমে আসা, ঝিমুনি এবং বুক ঝড়পড়ানি। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন কি না সেটা বোঝার সঠিক উপায় হলো নিয়মিত ব্লাড প্রেসার মাপানো। যেটা আমরা প্রায়শই এড়িয়ে যাই। মনে রাখতে হবে, শরীর তখনই সুস্থ থাকবে, যখন আপনি তার সম্পর্কে সঠিত তথ্য রেখে খেয়াল রাখবেন।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ৬টি মোক্ষম উপায়

১. শারীরিক কসরৎ

শরীরকে ফিট রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একে সচল রাখা। যিনি কম হাঁটা-চলা করেন, তিনিই সবচেয়ে বেশি অসুখের কবলে পড়েন। যাইহোক, হাল্কা ব্যায়াম অবশ্যই উপকারী এক্ষেত্রে। সপ্তাহে অন্তত দেড়শো মিনিট শরীরকে খাটান।

২. সুষম আহার

খাওয়া-দাওয়াকে সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। আমাদের শরীর আমরা কি খাচ্ছি, সেই অনুযায়ী আচরণ করে। খাবারের তালিকায় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার থাকলে অবশ্যই তা উপকারে লাগবে। আর বেনিয়ম করলে, তার হাল ভুগতেই হবে। ফলে, ডায়টেশিয়ানের সাহায্য নিয়ে সুষমখাদ্য আহরণ করা উচিত। বেশি করে ফল আর শাকসব্জি খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: