চাকরি ছেড়ে এই ব্যবসায় নামুন, মাসে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়

ছোটোবেলায় ঠিক আছে, তখন অভিভাবকরা রয়েছেন দেখভালের জন্য। চুটিয়ে ছোটোবেলাটা উপভোগ করা, কোনও রকম চিন্তাভাবনা না করেই। কিন্তু, বয়স যতো বাড়তে থাকে, শিক্ষাগত পর্যায়ে মানুষ যতো উপরের দিকে হাঁটতে শুরু করে বয়সের সঙ্গে, তখনই মাথায় এসে ভিড় করতে শুরু করে ভবিষ্যতের চিন্তা। খেয়েপরে তো বেঁচে থাকতে হবে। এবার কথা হলো, মানুষের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে লাইফ স্টাইলটাও অনেকাংশে জড়িত। তো সেইরকম পর্যায়টা ঠিকমতো রাখতে গেলে দরকার পড়ে আয়ের। এটা গেলো উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্তের কাহিনী। নিম্নবিত্ত ঘর থেকে উঠে এলেও, মানুষের ইচ্ছা থাকে জীবনে উন্নতি করার। শিক্ষাগত যোগ্যতা যাই হোক না কেন, বর্তমানে একটা মানুষের উন্নতির পর্যায় তাঁর আর্থিক সঙ্গতী দিয়েই মাপঝোক করা হয়।

চাকরির বাজারে বর্তমানে সরকারি সুযোগ সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে। বেসরকারি চাকুরির বাজারই বেশি। কিন্তু, সমস্যা হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন ক্রমশ বেড়েই চলেছে দিনদিন, তেমনই ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির সঙ্গে মাস মাইনে সেভাবে বাড়ছে না। প্রতিযোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াতে, কম মাইনেতে অনেক বেশি প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে, এটাও তরুণ সমাজের চিন্তার একটি বিষয়। আয় বৃদ্ধি তখনই সম্ভব, যখন প্রতিযোগীর সংখ্যা সীমাবদ্ধ হবে। অতিরিক্ত যোগান সবসময় মূল্য কমাতে বাধ্য।

এই কারণেই বর্তমানে চাকরি চেয়ে তরুণ সমাজ ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন। তাতে যেমন পরের গোলামি করার ঝক্কি থাকছে না, তেমনই আয়ের ব্যাপারটাও অনেকাংশে নিজের হাতে থাকছে। তবে, এক্ষেত্রে দু’টি বিষয় অতীব গুরুত্বপূর্ণ। সাহস আর সঠিক পরিকল্পনা। তবেই ব্যবসায় লাভবান হতে পারবেন। মাসে মাসে আয় একলক্ষ টাকা পর্যন্ত বা তারও বেশি হতে পারে।

সেই নিয়েই এই প্রতিবেদনে অত্যন্ত জরুরি উপদেশ রইল –

প্রথমে ঠিক করুণ কি ব্যবসা করতে চান। এখন দু’টি সেক্টরে যুব সম্প্রদায়ের ঝোঁক। টেকনোজি সেক্টর আর এগ্রি রুরাল সেক্টর। টেকনোলজি সেক্টরে স্টার্ট আপ শুরু করতে পারেন। কেন্দ্র সরকার সাহায্য দিচ্ছে সবরকমই। বর্তমানে ভারতে টেকনোলজি সেক্টরের সংখ্যা ঊনিশ হাজারেরও বেশি। এখানে সফল হতে গেলে ক্রমাগত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা নিতে হবে। আর পরিকল্পনা কাজে লেগে গেলে, কোটপতি হয়ে উঠতে পারেন যে কোনও উদ্যোগপতি।

এগ্রি রুরাল সেক্টরের ক্ষেত্রে দেশের রাজ্যসরকারগুলি বিশেষ করে জোর দিচ্ছে। আমাদের রাজ্যও তাতে পিছিয়ে নেই। ফুড প্রসেসিং সহ একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে। বড় ব্যাপার হলো, এই সব ব্যবসায় লগ্নি করলে সরকার ভর্তুকি যেমন দেয়, তেমনই করছাড়ের সুবন্দোবস্তও থাকে। ব্যবসা শুরু করার জন্য লোনও সস্তা দরে দেওয়া হয়। তবে, যেটা সবার আগে জরুরি, সেটা হলো যাই ব্যবসা করতে চান না কেন, সে সম্পর্কে ঠিক মতো খোঁজ খবর নিয়ে নিন। এব্যাপারে সব সরকারি সাহায্যই পাবেন। সরকারের যোজনা, স্কিম, ট্যাক্স ছাড়ের ব্যপারে যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য নিয়ে নিন।

ব্যবসা শুরু করার আগে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নয়, বরং স্বল্প মেয়ায়ী পরিকল্পনার দিকে ঝুঁকুন। তিন থেকে পাঁচ বছরের বাজেট বানান। কারণ, সেই অনুযায়ী তো লোনের জন্য আবেদন করবেন। খরচের পরিমাণও তার ওপর নির্ভর করছে। যেখান থেকে লোন নিলে সুদ ও ইএমআই কম হবে, সেদিকেই পা বাড়ানো বাঞ্ছনীয়।

নিজের ও পরিবারের জীবন বীমা অবশ্যই করিয়ে রাখবেন এবং যে ব্যবসায় নামছেন, সেই অনুযায়ী বীমার বন্দোবস্তও করে রাখুন অন্তত পক্ষে ১ থেকে ২ কোটি টাকার। আর সরকার থেকে যে কর ছাড় পাবেন, সেটা নিয়েও আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখুন। যে আর কি কি কাজে অতিরিক্ত অর্থটা কাজে লাগানো যায়। ব্যবসায় তখনই সফল হওয়া সম্ভব যখন একাধিক দিক লগ্নি করবেন। কারণ, ব্যবসার বাজার ক্রমশ পরিবর্তনশীল। ফলে ব্যবসায়ীকে সেই অনুযায়ী ফ্লেক্সিবল হতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: