ঘরোয়া উপায়েই বুঝে নিন, বাজার থেকে ঘরে কিনে আনা দুধটা ভেজাল কি না!

আজকাল যা দিন পড়েছে, তাতে কোনও কিছুতে যেন শান্তি নেই। সবকিছুতেই ঠগবাজি, জোচ্চুরি। খাওয়া-দাওয়াতেও নিস্তার নেই। সেখানেও ভেজালের নানান কারসাজি। তাও আবার প্রাণঘাতী। খাবারে ভেজাল ব্যাপারটা নতুন না হলেও, দিনদিন যেসব কারসাজি শুরু হয়েছে, তাতে চিন্তার ভাঁজ আরও বেড়েছে প্রশাসনের। সাধারণ মানুষের কথা ছেড়ে দিন, দাম দিয়ে জিনিসে কিনেও রেহাই পাবেন না পকেটে কড়ির জোর থাকলেও। কারণ, ভেজাল খাবার কারও পকেটের জোর দেখে না, গরীব-বড়লোক – সবার পাতেই ঠাঁই করে নেয়।

এই তো সেদিনকার কথা। ভাগাড়ের মাংস নিয়ে কি কাণ্ডটাই না হলো। মরা বেড়াল, কুকুর, আরও নাকি কত কি কি মড়া জন্তুর মাংস পেটে চলে গিয়েছে। বাড়ির হেঁশেল থেকে শুরু করে নামি রেস্তোরাঁ, ভাগাড়ের মাংসের যাতায়াত সর্বত্র ছিল। আর আমরা তা বেশ চেঁটেপুঁটেই খেয়েছি। ব্র্যান্ডেড দোকানের মাংস কি না! খরচ যখন দেদার হয়েছে, তখন আঙুল না চাঁটলে কেমন করে চলে। তখন কি বিন্দুমাত্র কেউ টের পেয়েছিলেন, কি পরিমাণ রোগজীবানু শরীরে প্রবেশ করছে। যারা খাওয়াচ্ছিল, তারাই বা কতোটা এব্যাপারে ওয়াকিবহাল ছিল। শুধু মোটা টাকা রোজগারেই আজকাল বিবেকবোধটা সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছে।

এই যে দুধের মতো একটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভোজ্য সামগ্রী। সেখানেও কি ছাড় দিয়েছে কেউ! একসময় যেটা জল মেশানোতে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেই ঠগবাজি মাত্রা ছাড়িয়েছে। দুধের মধ্যে সার্ফ গুলে খাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। রঙ আনতে ফিনাইলও মিশছে। কারও কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। কোথাও আবার কৃত্রিম উপায়ে রাসায়নিক দিয়ে পুরো দুধটাই তৈরি করা চলছে। স্টেশনে স্টেশনে তা আবার দশ-পনেরো টাকার চায়ের কাপে করে মানুষের পেটেও চলে যাচ্ছে মেশিনের চা বলে।

আমরা জানি সবেতেই ভেজাল রয়েছে। তবুও আমরা খেয়ে যাচ্ছি। আজকাল তো কিছু খেলেই অম্বলের জ্বালা। অ্যান্টাসিড মুখে দিয়ে ভেজালের ক্ষতিকারক দিকে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা। কে কার কথা শোনে। বেঁচে থাকতে গেলে খেতে হবে। আর খেতে গেলে, অতো বাছবিচার করলে চলবে না।

নিজের জন্য না হয় অতোটা মাথা ঘামালেন না, কিন্তু বাড়িতে যে দুধের শিশু আছে, সে? বা বৃদ্ধ বাবা-মা, তাদের মুখে কি করে ভেজাল দুধটা তুলে দেবেন, আশঙ্কা আছে জেনেও?

দুধের চাহিদা নিত্যদিনই বেড়ে চলেছে। দুধের বিকল্প কিছু নেই। ভেজালের বাজারে নামি-দামি সংস্থাগুলির দিকেও আঙুল উঠছে। সন্দেহের নজরে দেখা হচ্ছে। আর তাই জন্য সম্প্রতি প্যাকেটজাত দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারক একটি সংস্থা জনস্বার্থে একাধিক উপায়ের কথা জানিয়েছে, যার সাহায্যে আপনি সহজেই জেনে যাবেন, আপনি যে দুধটি কিনে এনেছেন, সেটি ভেজাল না আসল।

ভেজাল দুধ চেনার উপায় –

১. লিকুইড দুধ মাটিতে ঢালুন একটু। যদি দুধ মাটিতে গড়িয়ে গিয়ে সাদা দাগ রেখে যায়, তাহলে বুঝবেন, ওটা খাঁটি। আর যদি দাগ না পড়ে, তাহলে নিশ্চিতভাবে ওটা ভেজাল।

২. দুধ ফুটিয়ে খাওয়া অভ্যেস কমবেশি সবারই। একদিক থেকে ওটা ভালো অভ্যেসই। কারণ, তাতে জীবাণু মরে যায়। কিন্তু, দুধ ফোটাতে গিয়ে দেখলেন, সেটা হলেদেটে রং ধরতে শুরু করেছে, তাহলে বুঝে নিন, ওতে স্টার্চ বা কার্বোহাইড্রেট মেশানো হয়েছে।

৩. দুধ ফোটানোর আগেই কি করে বুঝবেন যে তাতে স্টার্চ মেশানো আছে? সে উপায়ও রয়েছে। একটা বাটিতে খানিকটা দুধ ঢেলে, তাতে ২ চা চামচ নুন ফেলে দিন। নুন মেশানোর পর দুধ যদি নীলচে রং ধরতে শুরু করে, তাহলে নিশ্চিত হয়ে যান, ওতে স্টার্চ মেশানো হয়েছে।

৪. টাটাকা ভাব আনতে মাছের গায়ে যেমন ফর্মালিন মেশানো হয়, তেমনই দুধের মধ্যেও মেশানো হয়। কি করে বুঝবেন, ফর্মালিন দেওয়া আছে কি না, দুধে? সেটা বোঝাও খুব সহজ। একটু সালফিউরিক অ্যাসিড নিয়ে দুধের মধ্যে ফেলে দিন। সাদা রং নীল হতে শুরু করলেই বুঝে নিন, ওতে ফর্মালিন মেশানো হয়েছে।

৫. আজকাল দুধে ইউরিয়াও মেশানো হয়। সেটা কি কর ধরবেন? এক চা চামচ সয়াবিন পাউডার ফেলে দিন একবাটি দুধে। এবার একটা লাল লিটমাস পেপার নিয়ে তাতে চুবিয়ে দেন। যদি লাল লিটমাস নীল হয়ে যায়, তাহলে বুঝে নিন, দুধে ইউরিয়া মেশানো হয়েছে।

৬. দুধে ডিটারজেন্ট পাউডার মেশানো হয়েছে, কি করে বুঝবেন? এটা বোঝাও খুব সহজ। একটা ছোট্টো কাঁচের বোতোল নিন, তাতে মাথার দিকে একটু জায়গা খালি রেখে দুধ ভরে ফেলেন। ছিপি আটকে বেশ করে ঝাকান। যদি মাত্রারিক্ত ফেনা তৈরি হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবে ওতে জামা-কাপড় কাচার সার্ফ মেশানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: