প্লাস্টিকের বোতলে ওঁত পেতে মৃত্যু! জল খাবার আগে এটি দেখে নিন..

ঠাকুমা-দিদিমাদের আমলের মাটির জলের কুঁজো, কলসি অনেকদিন আগেই বিদায় নিয়েছে। তাঁর জায়গা করে নিয়েছে রঙিন চকচকে প্লাস্টিকের বোতল। ফ্রিজে ঠাণ্ডা জল রাখাই হোক, বা ডাইনিং টেবিলে অথবা অফিস ডেস্কে। তেষ্টা মেটাতে হাজির প্লাস্টিকের বোতল। সর্বত্র। প্লাস্টিকের বোতলে জল অথবা নরম পানীয় কিনে পান করছি। ফাঁকা হওয়ার পরেই সেই বোতল ফেলছি না।

বরং জল পান করার জন্য সেই বোতলই ব্যবহার শুরু করছি নতুন করে।পথ চলতে অনেকেই আবার একটি জল ভর্তি বোতল সঙ্গে রাখি। সারাদিন অসংখ্যবার যখনই গলা শুকিয়ে গেলে তখনই ছিপি খুলে প্লাস্টিক বোতলের জল ঢকঢক গলায়। তৃপ্তির আহ! কিন্তু এইসব প্লাস্টিকের বোতলে ওঁত পেতে আছে সাক্ষাৎ মৃত্যু!

চিকিৎসকেরাও বলছেন, পানীয় জল বা নরম পানীয়ের এই ধরনের প্লাস্টিকের বোতলে জল ভরে বার বার খাওয়া মানুষের শরীরের জন্য যথেষ্টই ক্ষতিকারক। নরম পানীয় বা প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটারের বোতলগুলির ফাঁকা হওয়ার পরে সেগুলি নষ্ট করে দেওয়ার কথা বোতলের গায়েই লেখা থাকে। কার্যক্ষেত্রে আমরা করি ঠিক উল্টোটা।

দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক গৌতম ঘোষের কথায়, যত সময় যায়, এই ধরনের বোতলগুলির প্লাস্টিকের সঙ্গে জলের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। একে বলা হয় ‘লিচিং’। এতে প্লাস্টিকের মধ্যে মিশে থাকা রাসায়নিক অংশ জলের সঙ্গে মিশতে থাকে। আর সেই জলই পান করেন মানুষ। সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ না পাওয়া গেলেও এই লিচিং-এর ফলে মানুষের দেহে ক্যানসারের মতো রোগ হওয়ার আশঙ্কাও পুরোপুরি অমূলক নয় বলেই মত গৌত্মবাবুর।

শুধু পুরনো প্লাস্টিকের বোতলে জল পান করার ক্ষেত্রেই নয়, বরং নতুন জলের বোতল কেনার সময়ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের পরামর্শ, রোদে বা খোলা জায়গা রাখা জলের বোতল না কিনে দোকানের ভিতরে রাখা রয়েছে, এমন জলের বোতল কেনাই শ্রেয়। কারণ নতুন জলের বোতল হলেও একটানা রোদ লাগার ফলে সেই বোতলের ভিতরেও লিচিং বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে। বোতলের গায়ে আইএসআই ছাপ রয়েছে কি না, তাও দেখে নেওয়া উচিত।

এইসব বোতলের নীচের দিকে একটা ত্রিকোণাকার ক্ষেত্রের মধ্যে বিভিন্ন সংখ্যা (১,২ বা ৩ ইত্যাদি) লেখা থাকে। এটা কোড। ওই সংখ্যাগুলি, ওই নির্দিষ্ট বোতলটি কী পদার্থ দিয়ে তৈরি আর কত দিনই বা তা ব্যবহার করা যায়, সেটা জানায়। তাই ব্যবহারের আগে দেখে নিন আপনার বোতল কতটা নিরাপদ। প্রতি বোতলের নীচে এই কোড থাকা বাধ্যতামূলক।

ক) ত্রিভূজের মধ্যে ‘১’ লেখা থাকলে- এই ধরণের প্লাস্টিককে PETE বা PET বলে। এই উপাদান দিয়ে তৈরি বোতলে সোডা বা জল বিক্রি হয়। সাধারণভাবে পরিষ্কার হয় এই ধরনের বোতল। এগুলোকে এমনিতে নিরাপদ মনে করা হলেও যেহেতু এতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হওয়ার সুযোগ থাকে, তাই এই পদার্থ দিয়ে তৈরি বোতল পুনর্ব্যবহার না করাই ভালো।

খ) ত্রিভূজের মধ্যে ২ লেখা থাকলে- এই ধরনের প্লাস্টিককে HDPE বলে। এগুলো বেশি ঘনত্বের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। সাধারণভাবে ডিটারজেন্ট ও জুসের বোতল বা মাখনের কৌটোতে এই প্লাস্টিক ব্যবহার হয়। এ ধরনের বোতল নিরাপদ এবং ক্ষতির সম্ভবনা কম।

গ) ত্রিভূজের মধ্যে ৩ লেখা থাকলে- এই ধরনের প্লাস্টিককে PVC বলে। এ গুলি খুবই কঠিন হয়। রান্নার তেলের বোতল, খাবারের ঢাকনা, পানির পাইপ তৈরিতে ব্যবহার হয়। এ গুলো শরীরের পক্ষ ভালো নয়।

ঘ) ত্রিভূজের মধ্যে ৪ লেখা থাকলে- এই ধরনের প্লাস্টিককে LDPE বলে। মুদিখানার ব্যাগ, কিছু খাবারের প্যাকেটে এ গুলি ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহারের জন্য নিরাপদ।

ঙ) ত্রিভূজের মধ্যে ৫ লেখা থাকলে- এই ধরনের প্লাস্টিককে PP বলে। এই উপাদান খুবই নিরাপদ এবং ব্যবহারযোগ্য।

চ) ত্রিভূজের মধ্যে ৬ এবং ৭ লেখা থাকলে- এই ধরনের প্লাস্টিক খুবই ক্ষতিকারক নিত্য ব্যবহারের জন্য। এ গুলি একেবারেই রিসাইকেল করা যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: