মহিলাদের জন্য কেন্দ্র সরকারের বিশেষ সহযোগিতা, বিনা খরচে সরকারি ভরসা নিয়ে স্বনির্ভর হন!

জীবনে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার জন্য স্বনির্ভর হওয়ার থেকে আর কোনও বড় উপায় নেই। তবে, স্বনির্ভর হবো বললেই তো আর আর স্বনির্ভর হওয়া যায় না। চাকরি করলে পরের গোলামি। সময়ে সময় আপনার মাইনে দেওয়ার দায়িত্ব আপনার মালিকের। কিন্তু, স্বনির্ভর হতে গেলে হাতে একটা পুঁজি প্রয়োজন। তারপরের চিন্তা ভদ্রস্থ আয় কিভাবে হবে। সেল্ফ এমপ্লয়েড হবো – কথাটা বলা যতো সহজ, হওয়াটা ততোটাই চ্যালেঞ্জিং। অসাধ্য অবশ্যই নয়। মনের জোর থাকলে সব হয়। আর হ্যাঁ, উপযু্ক্ত ও সৎ পরিকল্পনা থাকা চাই।

খবরের কাগজে চাকরির বিজ্ঞাপনের কলামে হাজারো অ্যাড চোখে পড়ে। আবার ইন্টারনেটেও লাখো লাখো বিজ্ঞাপনের পসরা। সবাই সেল্ফ এমপ্লয়েড হওয়ার পরমার্শ দিচ্ছে। বেশিরভাগ বিজ্ঞাপনই লোভোনীয় আয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু, সমস্যা হয়ে যায়, কোনও সত্যি আর কোনটা লোক ঠকানো – সেটা বুঝতে। সত্যি বলতে, সেল্ফ এমপ্লয়েড হওয়ার প্রথম বড় পদক্ষেপ হলো, কোনটা ঠিক বা বেঠিক, সেটা বুঝতে শেখা। আর লোভের ফাঁদে পা না দেওয়া। সৎ মনোভাব ও পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই। সেটা করতে পারলেই, অর্থ ঠিকই আসবে। আর সমাজে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকতেও পারবেন। কাজ করবেন আর মাস গেলে মোটা টাকা আয় হবে – এই স্বপ্ন দেখা মোটেই খারাপ নয়। বরং বলতে হবে, সেটা ভালো। কারণ, জীবনে যাই করুণ না কেন পেশাদার হিসেবে, একটা লক্ষ্য অবশ্যই থাকা উচিত। তবেই সফলতা আসবে।

কোনও দেশ ততোটা উন্নত, যতোটা সে দেশের মেয়েরা স্বনির্ভর। ভারত আজ আধুনিক থেকে আধুনিকতর হচ্ছে। দেশের বেটিরা আজ কোনও অংশ পিছিয়ে নেই। শিক্ষা-দিক্ষা বলুন বা পেশাদারী জগতে। ধীরে ধীরে অনুপাত বাড়ছে পুরুষদের তুলনায়। কেন্দ্র সরকার গ্রামীণ মহিলাদেরও স্বনির্ভর করতে তুলতে উদ্যোগ নিয়ে আসছে আর নিচ্ছেও। আগামী দিনেও এই উদ্যোগ জারি থাকবে। কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে মহিলা ই-হাট নামক একটি পরিষেবা চালু রয়েছে। ইচ্ছুক মহিলারা সেই পরিষেবা সাহায্য নিয়ে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারেন। আর যদি কেউ আগে থেকেই স্বনির্ভর হন, তাহলে সেই ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন অনলাইন পরিষেবার সাহায্য নিয়ে। খরচ বিন্দুমাত্র নেই। পুরোটাই বিনামূল্যে। উপরি পাওনা – সরকারি উদ্যোগ হওয়ায়, ঠগবাজি, জোচ্চুরি কোনও ভয় নেই।

মহিলা ই-হাট পরিষেবার সুযোগ নিতে যা করতে হবে –

১. http://mahilaehaat-rmk.gov.in/en/join-us/ – এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।

২. ওখানে একটি ফর্ম পাবেন। সেটি ফিল-আপ করুন। আধার কার্ড থাকা অবশ্য প্রয়োজনীয়। ঠিকমতো ফর্ম ফিল-আপ করে সাবমিট অপশনে ক্লিক করলেও রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাবে সঙ্গে সঙ্গে।

৩. রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাওয়ার পর একটা ইউজার আইডি হাতে আসবে। ওইটি দিয়েই নিজের অ্যাকাউন্টে ওই ওয়েবসাইটে এবার থেকে লগ-ইন করবেন।

৪. ধরুণ আপনি কোনও কিছু তৈরি করেন, সেটা বিক্রি করেন। এবার আপনার মনে হচ্ছে, সেটা বিজ্ঞাপণ হলে ভালো আয় হতো। খদ্দের জানতে পারলে, তবেই না বিক্রেতার কাছে আসবে। যে যে পণ্যগুলি ক্রেতার উদ্দেশে ইন্টারনেটে দিতে চান, তার ছবি তুলে ফেলুন। আর সেগুলি ওই পোর্টালে আপলোড করে দিন। সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও দাম উল্লেখ করতে ভুলবেন না যেন।

৫. অর্ডার কিভাবে আসবে, সেই প্রশ্ন মাথায় আসা স্বাভাবিক। তাহলে বলে রাখি, ওয়েবসাইটে আপনার ফোন নম্বর দিয়ে রাখবেন আপনি। ই-মেইল আইডি দিয়ে রাখবেন। বিদেশ থেকেও ক্রেতা যোগাযোগ করতে পারে। হয় তারা আপনাকে ফোন করে নেবেন অথবা মেইল করে অর্ডার দিয়ে দেবেন।

৬. জিনিস বিক্রি করা অর্থের জন্য। তার বন্দোবস্তও রয়েছে। অনলাইন পেমেন্ট পরিষেবারও সুবন্দোবস্ত রয়েছে এই ই-হাট পোর্টালে। দরকার শুধু গ্রাহকের বিশ্বাস বজায় রাখা। সেই উদ্দেশে মাল পাঠানোর জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে তৈরি আছে ভারতীয় ডাকঘর বিভাগ।

৭. http://mahilaehaat-rmk.gov.in/en/india-post-parcel – এই লিঙ্কে গিয়ে ক্লিক করুন। আর ভারতীয় ডাক বিভাগের নথিভুক্ত গ্রাহক হয়ে যান। আপনার ক্রেতার বাড়িতে গিয়ে আপনার প্রোডাক্ট পৌঁছে দেবে ভারতীয় ডাক বিভাগ। অর্ডার প্রতি একটা নাম মাত্র অর্থ দিতে হবে তার জন্য আপনাকে। সেই অর্থ আগে থেকেই আপনি ক্রেতার থেকে নিয়ে নেবেন ডেলিভারি চার্জ বাবদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: