বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে সারদা-নারদা নয়, তৃণমূলকে যে ইস্যুতে আক্রমণে বিদ্ধ করলেন মোদী

সিন্ডিকেট নিয়ে তৃণমূলকে তোপ মোদীর। কড়া আক্রমম শানান তিনি। মোদী বলেন, রাজ্যে মা মাটি মানুষের নামে সিন্ডিকেট রাজ চলছে। সিন্ডিকেট রাজের নামে জোর করে গরিবের আয় ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সিন্ডিকেট ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে কিছু করা অসম্ভব। এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন, সব কিছুতেই সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেট ছাড়া এখানে কিছু হয় না। ইট, বালি, সিমেন্ট কিনতেও সিন্ডিকেটের কাছে যেতে হচ্ছে। এমনকী কলেজে ভর্তিতেও সিন্ডিকেট। ভোট ব্যাঙ্কের জন্য সিন্ডিকেটকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে সিন্ডিকেটের ইচ্ছেতেই সব হয়। প্রসঙ্গত, প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই কলাইকুন্ডায় বায়ুসেনা ঘাঁটিতে নামেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে মেদিনীপুর শহরে।

হেলিপ্যাড থেকে সড়কপথে পৌঁছন কলেজ গ্রাউন্ডের সভা ময়দানে। গোটা রাস্তা জুড়েই থিকথিক করছিল তৃণমূলের ২১ জুলাই-এর ব্যানার-ফেস্টুন। মমতার বড় বড় ছবি। সেটাকেই কটাক্ষ করে মোদী বলেন, “আমাকে স্বাগত জানানোর জন্য মমতাদিদিকে অসংখ্য ধন্যবাদ।” বক্তৃতার শুরুতেই কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। সভা থামিয়ে নিজেই সেই পরিস্থিতি সামলান প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, বড় বড় ব্যানার, ফেস্টুন, হোর্ডিং, তোরণে ছয়লাপ শহর। জেলাসদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের ওলিগলিতে কার্যত ‘গেরুয়াকরণ’ হয়েছে। রাস্তার দুধারে জোড়া ফুলের ব্যানার, পতাকা, ফ্লেক্সের পাল্টা অস্তিত্ব যেন প্রমাণ দিচ্ছে বিনা যুদ্ধে ছাড়া হবে না ‘সূচ্যগ্র মেদিনী’।

সোমবার মেদিনীপুর শহর থেকেই ‘ভোটযুদ্ধের বাদ্যি’ বাজাতে আসেন খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সভা এই জেলায়। আর তাতে যে মেদিনীপুরের উত্তাপ কতটা উর্ধ্বমুখী, তা টের পাওয়া যাচ্ছে শহরে ঢোকার সাত-আট কিলোমিটার আগে থেকেই। মেদিনীপুরের কলেজ মোড়ে আজ ‘কৃষক কল্যাণ সমাবেশে’ ভাষণ দেন মোদী। তবে তিনি যে কেবল কৃষকদের উদ্দেশেই বক্তৃতা দেবেন না তা ভালোভাবেই জানা ছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাই পাল্টা জবাবও দিয়েছে তারা। শহর জুড়ে নমোর বিশাল কাট-আউট, হোর্ডিংকে টক্কর দিচ্ছে শাসকদলও। মোদীর ব্যানারের পাশেই তৃণমূলের ২১জুলাইয়ের তোরণ। হোর্ডিং-কাট আউট যুদ্ধে তাই মোদীকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ছে না তৃণমূল।

আর সেই পোস্টার – ব্যানার লাগানোর জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানালেন তিন। তিনি বলেন, “আমাকে স্বাগত জানানোর জন্য মমতাদিদিকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: