পঞ্চায়েতের দূর্নীতি দেখাতে আমলাদের উপরই নির্ভর করছেন মমতা

গ্রাম পঞ্চায়েতের উন্নতির জন্য এবং পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির রাশ টানতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। নবান্নের একটি সূত্রের খবর গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি এখন থেকে আর ২৫ হাজার টাকার বেশি সরাসরি খরচ করতে পারবে না। যদি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচের প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে বিডিও অথবা জেলাশাসকের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে তাদের।

রাজ্য পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে ২৮৩৮/আইএসজিপিপি/গ্র্যান্ট-১/২০১৭ নির্দেশিকা মারফত সম্প্রতি এই নির্দেশ রাজ্যের প্রতি জেলার গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ডিজিটাল করা হচ্ছে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম। রাজ্যের কোন কোন গ্রাম পঞ্চায়েতে কি কি প্রকল্পের কাজ হচ্ছে, এবং সেই প্রকল্পে কত খরচ পড়ছে তা এবার ইন্টারনেটের মাধ্যমে রাজ্যের যে কোনো জায়গা বসেই মাউস ক্লিকের মাধ্যমে জানতে পারবেন রাজ্যবাসী। আর এর জন্যই রাজ্যের সমস্ত পঞ্চায়েতগুলির খরচকে ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পোর্টাল (জিপিএমএস) এর আওতায় আনা হচ্ছে। এই পোর্টালের আওতায় এবার থেকে পঞ্চায়েত কতৃপক্ষকে এখন থেকে তাদের যাবতীয় খরচের হিসেব অনলাইনে আপলোড করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে  নবান্নের এক শীর্ষ কর্তা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, “ এই মুহুর্তে প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েত বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য কোটি টাকার বেশি পেয়ে থাকে। এতদিন এই টাকা গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি সরাসরি খরচ করার ক্ষমতা ভোগ করত। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দুর্নীতি সুযোগ থাকত এবং বারবার পঞ্চায়েতগুলির বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ উঠত। দুর্নীতির অভিযোগে ব্যতিব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী তাতে লাগাম টানার জন্যই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন”। নবান্নের ওই সূত্র থেকে আরও জানতে পারা গেছে যে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ টাকা সঠিকভাবে খরচ হচ্ছে কিনা তা নির্নিত করতে এখন থেকে সাতদিন অন্তর গ্রামপঞ্চায়েতগুলিকে সে বিষয়ে রিভিউ মিটিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাতে হবে বিডিওদের কাছে। এই মুহুর্তে রাজ্যে মোট গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা  ৩ হাজার ৩৪০টি।

এখানেই শেষ নয় এখন থেকে প্রতিটি গ্রামপঞ্চায়েতকে পঞ্চায়েত স্তরে বাধ্যতামূলকভাবে মনিটরিং তথা ইনস্পেকশন কমিটি গড়তে হবে।  গ্রামপঞ্চায়েত গুলির কাজের পরিকল্পনা এখন থেকে এই কমিটিই রুপায়ণ করবে। কাজ হয়ে যাওয়ার পর প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে বিডিও কাছে সেই কাজের অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে। সেই রিপোর্ট বিডিও খতিয়ে দেখার পর তা ফের যাবে জেলা শাসকের কাছে।  জেলাশাসক সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পরই ওই কাজের টাকা পাবেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারেরা। পঞ্চায়েত ভোটকে সামনে রেখে তৃনমূল সুপ্রিমোর এহেন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে নবান্ন তো বটেই শোরগোল পড়ে গেছে তৃণমূলের অন্দরেও।

দলের একাংশ দলের অন্দরেই এ নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃনমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে। ঘনিষ্ঠ মহলে দলের একাংশ জানিয়েছেন যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী ক্রমশ আমলা নির্ভর হয়ে পড়েছেন তাতে ভবিষ্যতে দলের নীচুতলার কর্মীদের সংগঠিত করাটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে”। তাদের আরও বক্তব্য কেউ তো আর ঘর থেকে টাকা এনে দল বা সংগঠন করে না। ফলে সংগঠন করতে গেলে টাকার দরকার হয়। দিদি যদি সব কিছুই আমলাদের দিয়ে করাতে চান  তাহলে দলের নীচু তলার নেতারা কিভাবে বাকিদের সংগঠিত করবেন।

আরো পড়ুন-মমতাকে যিনি বাইক চালিয়ে নন্দীগ্রামে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনিই এখন বিজেপি-তে

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: