পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলের দিকে তাকিয়ে রাহুল গান্ধী

১২ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মিজোরাম, রাজস্থান ও তেলেঙ্গানার নির্বাচন। শেষ ৭ ডিসেম্বর, ফল ঘোষণা ১১ ডিসেম্বর। এই পাঁচ রাজ্যে শুধু মিজোরামে ক্ষমতায় কংগ্রেস। বাকি চারটিতে ২০০৩ সাল থেকে প্রত্যেক নির্বাচনেই ভরাডুবি। ফলে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। উলটো দিকে তেলেঙ্গানায় কখনই ক্ষমতায় আসেনি কংগ্রেস। এবার যে করেই হোক ক্ষমতায় ফিরতে হবে।ফলে বিশ্লেষকদের মতে এবার পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন যত না অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদির ওপর প্রভাব ফেলবে তার চেয়েও বেশি এই পাঁচ রাজ্যে কংগ্রেস ভালো ফল করতে পারলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তা রাহুল গান্ধীর পক্ষে হবে ইতিবাচক।

পাচঁ রাজ্যের দৌড়ে জিততে গত পনেরো বছরের প্রচার কৌশলেও বদল এনেছে রাহুল বিগ্রেড। গণতন্ত্রের পথ ছেড়ে বিজেপির হিন্দুত্ববাদের তাসই খেলছে কংগ্রেস, তবে সেটা সরাসরি প্রচারে না উঠে এসে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরদের মতে রাহুল গান্ধীর ব্রাহ্মন পরিচয় উঠে আসছে রাজ্যগুলির ভোট প্রচারে এবং আমেথিতে আবার রাহুল গান্ধীর শিবমহিমা প্রচার করা হচ্ছে এবং ব্যানারে দেখা যাচ্ছে রাহুল গান্ধী শিবের প্রতি পুষ্পাঞ্জলি দিচ্ছেন। পাঁচ রাজ্যের মধ্যে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ বলে এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ আর ছত্তিশগড়ে বর্তমানে ক্ষমতায় আছে বিজেপি সরকার যেখানে তেলেঙ্গানায় তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি এবং মিজোরামে কংগ্রেস। সম্প্রতি এবিপি আনন্দের একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে পাঁচ রাজ্যের মধ্যে তিনটিতে কংগ্রেসের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মধ্যপ্রদেশ আর ছত্তিশগড়ে হয়ত কংগ্রেস এখনও সেভাবে প্রভাব বিস্তার করছে পারছেনা এবং বহুবছর ধরেই সেখানে রয়েছে নেতৃত্বের সংকট আর তাই বিজেপির নীতি হিন্দুত্ববাদকেই দলের মূল নীতি ধর্ম নিরপেক্ষতা আর গণতন্ত্রের বদলী হিসেবে মান্যতা দিচ্ছে রাহুল সমর্থকরা। ব্যাপম থেকে কৃষক বিক্ষোভ , মধ্যপ্রদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে যেখানে প্রচারে ইস্যুর অভাব নেই, সেখানেই ১৭ই সেপ্টেম্বর ভোপালে ‘শিবভক্ত’ হিসেবে রাহুল গান্ধীর পোস্টার টাঙালো হয় এবং চিত্রকূট শহরের বিখ্যাত কামতা নাথ মন্দির দর্শনও করে আসে রাহুল গান্ধী যা আসলে হিন্ধুদের একটি বিশেষ দর্শনীয় স্থান। তবে একদিকে নেতৃত্বের সংকট অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশ আর ছত্তিসগড়ে জোট রাজনীতি করতে না পারা অবশ্যই কংগ্রেসের পক্ষে খুব একটা সুবিধার কিছু না বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারনা।

অন্যদিকে একমাত্র রাজস্থানে কংগ্রেস কিছুটা ফ্রন্ট ফুটে রয়েছে, সেখানে বসুন্ধারে রাজে সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভ সর্বতো যেখানে বাকি রাজ্যগুলির মধ্যে তেলেঙ্গানায় তেলুগু দেশমের সাথে জোট করেছে কংগ্রেস যদিও টি আর এসের বিরুদ্ধে তা কতটা কার্যকরী হবে তা ভোটের ফলই বলবে। আবার মিজোরামে কংগ্রস সরকারে থাকলেও সেখানেও রয়েছে পরিবর্তনের হাওয়া। ফলে আগামী লোকসভা ভোটের সরকারে ফিরে আসতে মোটের ওপর পাঁচ রাজ্যের  আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকেই পাখির চোখ করেছে রাহুল গান্ধী এবং এই রাজ্যগুলির ভোটের ভাল ফল যে রাহুলের পক্ষে লোকসভার জন্য কিছুটা বাড়তি এডভান্টেজ সেটা কংগ্রেস বিগ্রেডও ভাল করে জানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: