মমতা ব্যানার্জি অবসর নিলে তৃণমূল যে পাঁচ গভীর সঙ্কটে পড়তে পারে

সামনেই লোকসভা নির্বাচন, তার আগে লড়াইয়ের ময়দানে নামার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ইতিমধ্যেই তাদের সমস্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে ভালোই ফলাফল করেছে শাসক দল তৃণমূল। এবার তাদের পরবর্তী লক্ষ্য লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া। তবে তৃণমূল নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি একমাত্র তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি কোন কারনে দল থেকে সরে দাঁড়ায় তাহলে ভাবতে পারছেন তৃণমূলের কি হতে পারে? এক নজরে দেখে নিন কি কি সমস্যায় পরতে পারে তৃণমূল।

৫) আমরা সবাই রাজা মনোভাব আসতে পারে দলে :

দলকে একহাতে পরিচালনা করে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাকেই জননেত্রী মেনে তার নির্দেশ মতই কর্মীরা এগিয়ে চলেছেন। তবে কোন কারণে নেত্রী যদি দলবিমুখ হন সেক্ষেত্রে বেশ সমস্যায় পড়তে পারে দল। কেননা সে ক্ষেত্রে আমরা সবাই রাজা মনোভাব প্রকাশ্যে আসতে পারে। কেননা তৃণমূল নেত্রীর পরবর্তী হিসাবে এখনও দলে সেভাবে কেউ প্রতিষ্ঠা পায়নি। যে কারণে তৃণমূলের শেষ কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি দল থেকে সরে দাঁড়ালে দলে বিভেদ দেখা দিতে পারে। সকলেই নিজেকে দলের মাথা মনে করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন নিচুতলার কর্মীরা।

৪) ব্যক্তিকেন্দ্রীক পার্টির যাবতীয় সমস্যা ভোগ করতে হতে পারে :

জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এগিয়ে চলেছে তৃণমূল দলটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনো দল বিমুখ হবেন তা ভাবাই যায় না। তবে যদি হয় কি সে ক্ষেত্রে কি কি সমস্যা হতে পারে ভেবে দেখেছেন? এক্ষেত্রে দল তখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠতে পারে। জায়গা বিশেষে যেখানকার দায়িত্বে যে সমস্ত তৃণমূল নেতৃত্ব রয়েছেন বলা যায় না তারাই স্বঘোষিত দলের কর্তা হয়ে উঠতে পারেন। ফলে দল ব্যাক্তি কেন্দ্রিকতার অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে বলে মনে করা হয়।

৩) নীতি সঙ্কটে ভুগতে হতে পারে :

দলকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়াই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্য। সে ক্ষেত্রে তিনি যদি কখনো দলবিমুখ হন নীতি সংকটে পড়তে পারে তৃণমূল দলটি। কেননা তৃণমূল নেত্রীর পরবর্তী হিসেবে দলের কর্তৃত্ব এখনো কাউকে দেওয়া হয়নি। যে কারণে দলের সর্বময় কর্তা বলা যেতে পারে মা-মাটি-মানুষের নেত্রীকে। সুতরাং নেত্রী দলে না থাকলে অন্যান্য নেতারা নিজেদের মত দল পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যে কারণে নীতি সংকটের মুখোমুখি হতে পারে তৃণমূল দল।

২) সিদ্ধান্তগ্রহণে দলীয় বিরোধ চরমে উঠতে পারে :

শাসক দল তৃণমূলের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দলে না থাকলে সে ক্ষেত্রে বিরোধ দেখা দিতে পারে দলে বলে মনে করা হয়। কেন না দলের প্রথম সারির নেতৃত্বের মধ্যে এমন বহু নেতৃত্বে রয়েছেন যারা নিজেদের মতামত শিরোধার্য করার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কখনো সকলের চিন্তাধারার মিল নাও ঘটতে পারে, তখনই বিরোধের সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হয়।

১) অনুপ্রেরণা দেওয়ার চরিত্রের অভাব :

একটা সময় ছিল তৃণমূল কংগ্রেসে যখন হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র কর্মী ছিল। সেখান থেকে একটা গোটা রাজ্য পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একটি গোটা রাজ্যকে তখনই পাশে পাওয়া যায় যখন তাদের মন মতন হওয়া যায়। সেক্ষেত্রে শূন্য থেকে আজ পর্যন্ত দলকে প্রত্যেক মুহূর্তে অনুপ্রেরণা দিয়ে এসেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুতরাং তিনি যদি কখনো দলে না থাকেন সেক্ষেত্রে দলকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার মত মানুষের অভাব হবে বলে মনে করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: