মোদীর কাছে ২০১৯ লোকসভা ভোট খুব কঠিন হতে চলেছে যে পাঁচ কারণে

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার অভিযানে নামতে চলেছে মোদি সরকার। ইতি মধ্যে দেশজুড়ে মোদী সরকারের কাজের খতিয়ান সাধারণ মানুষের অবগত করার জন্য প্রত্যেকটা রাজ্যের নেতৃত্বরা দায়িত্ব সহকারে প্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ২০১৯ এ লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভের জন্য তৎপরতার সাথে আগামী পদক্ষেপগুলি নিচ্ছেন। তবে লোকসভা নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে খুব একটা লাভ জনক হবে বলে মনে হচ্ছে না। কেননা মোদি সরকারের বেশ কিছু ত্রুটি উঠে এসেছে জনসমক্ষে। এক নজরে দেখে নিন কোন কারণগুলির জন্য ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন নরেন্দ্র মোদির কাছে কঠিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

৫) বেশিরভাগ প্রতিশ্রুতিই রাখতে না পারা : নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার আগে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষকে বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির নিরিখেই ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তন করেছিল দেশবাসী। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর চার বছর কেটে গেলেও লক্ষ্য করা যায় বেশিরভাগ প্রতিশ্রুতি রাখতে অসমর্থ হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। যে কারণে সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা হলেও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে সুতরাং সেই ক্ষোভ লোকসভা নির্বাচনে প্রকাশ পাবে কিনা তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রতিশ্রুতি না রাখার জন্য ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে মোদি সরকার চাপে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

৪) সরকার বিরোধী হওয়া রয়েছে : মোদি সরকার শুরু থেকেই নিজেদের পরিকল্পিত লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন। কখনো কখনো বিভিন্ন রাজ্য সরকার গুলির সাথে বিরোধিতায় নেমেছেন সুতরাং রাজ্য সরকার গুলির সাথে বিরোধিতায় মোদী সরকারের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা প্রত্যেকটা রাজ্যের সাথে প্রধানমন্ত্রী যদি সহমত পোষণ করে না চলেন সেক্ষেত্রে বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় রাজ্যগুলিকে। সুতরাং ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে মোদি সরকারের চাপে পড়ার এটি একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

৩) আমজনতার নাভিশ্বাস : সাধারণ মানুষ এবং আম জনতাকে সাথে করে আসনে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরবর্তী সময়ে আম জনতার প্রতি তার জনদরদি মনটা প্রকাশ পায়নি। মুখে ‘মিত্র’ বললেও মনে কখনই সাধারণ মানুষের জন্য কোন আবেগ তার বিকশিত হয়নি। যা সাধারণ মানুষের পক্ষে খুব কষ্টকর সুতরাং যাদের ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল মোদি সরকার, তাদের নাভিশ্বাসে বিপাকে পড়তে পারে মোদি।

২) কংগ্রেস ক্ষমতায় না থাকায় গান্ধী পরিবারের ওপর আগেরমত ক্ষোভ নেই : বর্তমানে কংগ্রেস ক্ষমতায় না থাকার ফলে সরাসরি গান্ধী পরিবারের প্রতি আগের মতন তার কোনো ক্ষোভ নেই সাধারণ মানুষের। পূর্বে সোনিয়া গান্ধী ক্ষমতায় থাকাকালীন বহুবার মানুষের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। তবে বর্তমানে রাহুল গান্ধী কংগ্রেস সভাপতি থাকলেও কোন গুরু দায়িত্বে তারা নেই। যে কারণে বর্তমানে তারা সাধারণ মানুষের খুব কাছের, এটাই মোদি সরকারের অন্যতম একটি চাপ বলে মনে করা হয়। কেননা কংগ্রেস যদি ক্ষমতায় থাকতো তাহলে তার ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে মানুষ মুখ খুলতো। সেটা না থাকায় মোদির দিকে চাপ টা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

১) কালো টাকা থেকে স্বচ্ছপ্রশাসনে ব্যর্থ হওয়া : নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন কালো টাকা সরাবেন, প্রশাসনের স্বচ্ছতা আনবেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তার এই প্রতিশ্রুতি গুলি রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিভিন্ন সময় নোট বন্দির কারণে বিপাকে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। যার ফলে মোদি সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আমজনতা। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা নির্বাচনে চাপে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: