মোদীকে প্রধানমন্ত্রী করার পিছনে এই পাঁচটা বড় কারণকে গুরুত্ব দিয়েছিল দেশের মানুষ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের ব্যাপক আর্থিক ও প্রতিষ্ঠানগত সংস্কারের নিরিখে ভারতের ক্রেডিট রেটিং আপগ্রেড করেছে আমেরিকার সমীক্ষা সংস্থা মুডিজ। একই সঙ্গে ব্যক্তি মোদির জনপ্রিয়তা নিয়েও একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ফেসবুক কিংবা টুইটারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কতটা জনপ্রিয় তার আভাস পাওয়া যায়। তার পাশাপাশি সভা, সমাবেশেও তার জনপ্রিয়তার আঁচ পাওয়া যায়। এবার সেই জনপ্রিয়তার কারণ নিয়ে গবেষণা চালাল ইউনিভার্সিটি অফ মিচিগানের স্কুল অফ ইনফর্মেশন। এতএব কংগ্রেসের দুর্নীতির উত্তরে জনপ্রিয় মুখ তথা গুজরাতের উদাহরণ মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পিছনে বড় ফ্যাক্টার হয়েছিল বলে মনে রাজনৈতিক মহল। কিন্তু আর যে যে কারণে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কারণ হিসাবে রাজনৈতিক মহল মনে করে সেগুলো দেখে নেওয়া যাক-

৫) ইউপিএ সরকারের দুর্নীতিতে মানুষের ক্ষোভ


গান্ধী পরিরাবের বাইরে বড় নেতার হাতে দেশের দায়িত্ব দেওয়া কংগ্রেসকে তোপ দেগে মোদি বলেন, কংগ্রেস শাসিত ইউপিএ সরকারের আমলে প্রচণ্ড দুর্নীতির কারণেই দেশবাসী আজ তাদের ওপর ক্ষুব্ধ, কেরল রাজ্যেও ঠিক একই অবস্থা বিরাজ করছে। ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির কারণেই কংগ্রেসের আজ করুণ অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা সময় ছিল যখন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী সংসদে ৪০০’এর বেশি আসন জিতেছেন কিন্তু আজ শতাব্দী প্রাচীন এই দলটি মেরেকুটে ৪০টি আসন জেতে। শুধু মোদী নয়, এই একই মত কিন্তু রাজনৈতিক মহলেরও।

৪) দিল্লির রাজনীতির মিইয়ে যাওয়া নেতাদের দেখে ক্লান্ত মানুষ চাইছিল বলিষ্ঠ নেতার


অপেক্ষাকৃত নবীন নেতা নেহেরু-গান্ধী পরিবারের উত্তরসূরি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রস পার্টি এখন এক ঐতিহাসিক সংকটের মধ্যে দিয়ে চলেছে৷ ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভরাডুবির পর এখনো পর্যন্ত পায়ের নীচে মাটি নেই৷ ২০০৯ সালের নির্বাচনে ৫৪৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে কংগ্রেস জোটের যেখানে ছিল ২৬২টি আসন, বর্তমানে তা এসে ঠেকেছে মাত্র ৪৪টিতে৷ রাজ্য বিধানসভার ভোটেও একের পর এক রাজ্য হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে কংগ্রেসের৷ স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত এত বড় একটা ঐতিহ্যমন্ডিত পার্টি, যাকে বলা হতো সর্বভারতীয় রাজনৈতিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বা পাওয়ার-হাউস, আজ কংগ্রেসের হাল দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, কেন এই দৈন্যদশা? একটু ভিতরে ঢুকলে জানা যায়, দিল্লির রাজনীতিতে কংগ্রেসর মিইয়ে যাওয়া নেতাদের দেখে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল মানুষ। তাই প্রয়োজন ছিল বলিষ্ঠ নেতার। এমনই মত রাজনৈতিক মহলের।

৩) জনসংযোগ ও বাক্যবাগীশ, কাজের মানুষ হিসেবে মোদীকে চেনেছিল মানুষ

নিজের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের জবাব না দিয়েই পাল্টা আক্রমণ করলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে বললেন, ‘আপনি নামের মানুষ, আর আমি কাজের মানুষ।’ একই সঙ্গে রাহুলের দিকে ১৫ মিনিটের ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুড়ে দিয়েছেন মোদী। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘‘ওর ক্ষেত্রে ১৫ মিনিট বলাটাই বিরাট ব্যাপার। মনে হয়, যখন সেটা শুনব, বসে থাকতে পারব না। সত্যি, কী দৃশ্য হবে! কংগ্রেস সভাপতি, স্যার, আপনার সামনে সত্যিই বসে থাকতে পারব না। আপনি বিখ্যাত আর আমি সাধারণ কর্মী। মোদী তার বক্তব্যে টেনে আনেন মোহনদাস মহাত্মা গান্ধীকেও। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরে কংগ্রেসকে তুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন মহাত্মা। তবে অনেকক্ষেত্রে মোদীর এই কথাকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ সমর্থন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: