আধার তথ্য মুছতে টেলিকম সংস্থাগুলির কাছ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট চাইল UIDAI

গত ২৬ শে সেপ্টেম্বরই দেশের শীর্য আদালত দ্বর্থ্যহীন ভাষায় জানিয়ে দেয় আধার সাংবিধানিকভাবে বৈধ কিন্তু বেসরকারী ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। তথ্য সংরক্ষনের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে সুপ্রীম কোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছে কোনো বেসরকারী প্রতিষ্ঠানই নাগরিকদের থেকে আধার তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেনা।

এবার তারই জেরে আধার কর্তৃপক্ষ বা ইউআইডিএআই টেলিকম সংস্থাগুলির কাছে জানতে চাইল তাদের ডেটা বেস থেকে ইতিমধ্যেই নেওয়া আধার তথ্য মুছে ফেলতে তারা কি ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আগামী দিনেও নতুন সিমকার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে ঠিক কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেলিকম সংস্থাগুলিকে বিস্তারিত খসড়া জমা দিতে বলেছে ইউআইডিএআই।

 

ইউআইডিএআই এর সিইও অজয় ভূষণ সাংবাদিকদের বলেন সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়ের ফলে আধার তথ্য মুছে ফেলতে দ্রুত সদ্ব্যর্থক পদক্ষেপ নিতে হবে টেলিকম সংস্থাগুলিকে। আধার আইনে ৫৭ ধারা খারিক করে শীর্ষ আদালত তার রায়ে জানায় আধার তথ্য নেওয়ার অধিকার নেই কোনও টেলিকম সংস্থার।

তবে খসড়া জমা দেওয়ার জন্য ইউআইডিএআই এর কাছে কোনও কোনও টেলিকম সংস্থা আরও কিছু সময় চাইবে বলে সূত্রের খবর। ভোডাফোনের আধিকারিকের মতে সুপ্রীম কোর্টের রায় মানতে আমরা বাধ্য, তবে ইতিমধ্যেই আধার সম্বলিত প্রোগাম চলায় তাকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করতে এবং আধার তথ্য মুছতে কয়েকটা দিন লাগবে।

গত ২৬ শে সেপ্টেস্বর প্রধারন বিচারপতি দীপক মিশ্র সহ পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ সাধারন জনজীবনের একাধিক পরিষেবার সাথে আধার সংযুক্তীকরনের বিরোধিতা করেন। যেমন নতুন ব্যাঙ্ক একাউন্ট খুলতে কিংবা স্কুলের ভর্তির ক্ষেত্রে আধার আর বাধ্যতামূলক নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রীম কোর্ট। কোনও টেলিকম সংস্থাও সংযুক্তিকরনের তথ্য হিসেবে আধার তথ্য চাইতে পারেনা বলে জানায় বিচারপতি দীপক মিশ্রের বেঞ্চ। আধার রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি এ এম খানবিলকর, বিচারপতি এ কে সিকরি, ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং অশোক ভূষণের সাংবিধানিক বেঞ্চ উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাধারন মানুষের গোপনীয়তা রক্ষার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। একই সাথে তাঁরা তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: