দুনিয়ার এমন পাঁচটা ভয়াবহ ব্রিজ ভাঙার ঘটনা যা মাঝেরহাট কাণ্ডের ভয়াবহতাকে হার মানায়

মঙ্গলবার বিকেল ৪.৪৫ মিনিটে ভেঙে পড়ে মাঝেরহাট ব্রিজ। একাধিক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আরও ৪ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা। ঘটনাস্থলে পুলিস, রয়েছেন সেনাবাহিনীর কর্মী। বহু বাইক আরোহীর ব্রিজের নীচে চাপা পড়ে থাকার খবর পাওয়া গিয়েছে। ব্রিজের বিভিন্ন বিন ও পিলারের সাহায্যে ভেঙে পড়া অংশে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে ব্রিজের বাকি অংশটাও ভেঙে না পড়ে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। ভাঙা ব্রিজে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে গাড়ি। মনে করা হচ্ছে, মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা গাড়ি ও আটকে পড়া বাসের মধ্যে আর কেউ আটকে নেই। সকলকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ভাঙা অংশের নীচে কেউ চাপা পড়ে রয়েছেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসে। কয়েকজন আহতকে সিএমআরআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হঠাত্ প্রবল আওয়াজে সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে পড়ে। সেতুর উপরে যানবাহনগুলি ছিটকে পড়ে। বাস এবং বিভিন্ন গাড়ি-বাইকের আরোহীরা গুরুতর আহত হন। মাঝেরহাট ব্রিজ বিপর্যয়ের তদন্তভার পেয়েই পূর্ব রেলকে রিপোর্ট দিল ‘রাইটস’। বুধবার সকালেই প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে রেলের অধীনস্থ পরিকাঠামো বিষয়ক পরামর্শদাতা এই সংস্থা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মেট্রো রেলের কাজের সঙ্গে এই ব্রিজ বিপর্যয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকেই দায়ী করেছে রাইটস। সংস্থাটির দাবি, ব্রিজে বেশি ভার পড়েছে এবং সঠিক প্রক্রিয়ায় উপরের অংশে ভার নিয়ন্ত্রণ হয়নি বলেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আরও পড়ুন- রেলের তরফে মাঝেরহাট ব্রিজ দুর্ঘটনার তদন্তভার পেল রাইটস

মঙ্গলবার বিকাল ৪টে ৪৫ মিনিট নাগাদ হঠাত্ ভেঙে পড়ে মাঝেরহাট ব্রিজ। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয় এলাকায়। ঘটনায় ইতিমধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। এছাড়া আহত হয়েছেন ৩১ জন। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার হাসপাতালে ইতিমধ্যে চিকিত্সা চলছে তাঁদের। মঙ্গলবার সন্ধ্যাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, মেট্রো রেলের কাজের জন্যই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকতে পারে ব্রিজটি। এছাড়া ব্রিজ দুর্ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীও এর দায় চাপান রাজ্য পূর্ত দফতর এবং রেলের উপর। উল্লেখ্য, এই মাঝেরহাট ব্রিজের নীচ দিয়েই গিয়েছে শিয়ালদহ-বজবজ শাখার রেল লাইন। তবে, রাজ্যপাল অভিযোগ করলেও মঙ্গলবারই দায় অস্বীকার করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবু, বুধবার সকালেই জানা যায়, রেলের তরফে এই দুর্ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হচ্ছে ‘রাইটস’কে। এরপরই অতি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেলের অধীনস্থ এই কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাটি।

৫) ৪ জানুয়ারি ১৯৯৯ : রেনবো ব্রিজ ভেঙে পড়ে চিনে (মৃত্যু হয় ৪৯ জনের)

৪) ৪ মার্চ ২০০১ : পর্তুগালে হিঞ্জ বিরেরো ব্রিজ ভেঙে পড়ে (মৃত্যু হয় ৫০ জনের)

৩) ২১ অক্টোবর ১৯৯৪ : দক্ষিণ কোরিয়ার সংশু ব্রিজ ভেঙে পড়ে (ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৩১ জনের)

২) ১৫ ডিসেম্বর ১৯৬৭ : সিলভার ব্রিড ভেঙে পড়ে আমেরিকার ওহায়োতে (মৃত্যু হয় ৪৬ জনের)

১) ২ ডিসেম্বর ২০০৬: বিহারের ভাগলপুরে ট্রেনের উপরে ভেঙে পড়ে ব্রিজ ( মৃত্যু হয় ৩৩ জনের)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: